জাতীয় নির্বাচন একটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। এয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো আবেগ নয়, বিবেক, তথ্য ও ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রশ্নটা তাই “কাকে ভোট দেবেন?”—এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, “কেন দেবেন?”
১. উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বনাম পরিবর্তনের প্রয়োজনঃভোট দেওয়ার আগে দেখা দরকার; গত কয়েক বছরে দেশ বা নিজের এলাকায় কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, ডিজিটাল সেবা, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে কি না। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলতে হবে, যেখানে উন্নয়ন হয়নি বা বৈষম্য রয়ে গেছে, সেখানে পরিবর্তনের প্রয়োজন কতটা জরুরি। একজন বিচক্ষণ ভোটার এই দুইয়ের ভারসাম্য খোঁজেন।
২. প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাঃদল বড় বিষয়, কিন্তু প্রার্থীও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিবেচনা করা উচিত:ক। প্রার্থী কি এলাকার মানুষের সঙ্গে যুক্ত?খ। প্রার্থীর সংসদে কথা বলার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা আছে কি?গ। প্রার্থী অতীতে কোনো দুর্নীতি বা বিতর্কে জড়িত ছিলেন কি না?এসব প্রশ্নের আলোকে বিবেচনায় নিতে হবে ভোট মানে শুধু প্রতীক নয়, একজন প্রতিনিধি নির্বাচন।
৩. গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও আইনের শাসনঃযে শক্তি বা প্রার্থী মতের ভিন্নতাকে সম্মান করে, আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থাকে সমর্থন করে এবং সাংবাদিকতা ও নাগরিক অধিকারে বিশ্বাসী তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হতে পারে। ভোটার হিসেবে এসব মূল্যবোধের প্রতি অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখা জরুরি।
৪. অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিকল্পনাঃভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়। নির্বাচনী ইশতেহারে কে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দিচ্ছে, তরুণদের জন্য দক্ষতা ও চাকরির সুযোগ তৈরির কথা বলছে এবং মূল্যস্ফীতি ও আয়-বৈষম্য কমানোর রূপরেখা দিচ্ছে সেটা বিশ্লেষণ করা দরকার, শুধু স্লোগান নয়।
৫. নেতিবাচক রাজনীতি নয়, ইতিবাচক ভিশনঃযে রাজনৈতিক শক্তি বা প্রার্থী কেবল প্রতিপক্ষকে দোষারোপে ব্যস্ত, তারা সাধারণত ভবিষ্যৎ নির্মাণে দুর্বল হয়। একজন সচেতন ভোটার খোঁজেন; কারা সমাধানের কথা বলছে, কারা বিভাজনের বদলে ঐক্যের কথা বলছে এবং কারা আগামী ১০–২০ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা দিচ্ছে।
ভোট দেওয়া মানে শুধু একটি দিন নয়, আগামী কয়েক বছরের দায়িত্ব হস্তান্তর। তাই সিদ্ধান্ত হোক তথ্যভিত্তিক, শান্ত মাথায় নেওয়া এবং ইতিবাচক।আপনি যাকেই ভোট দিন, সেটি যেন হয় দেশের জন্য ভালো, এলাকার জন্য উপকারী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ। মনে রাখবেন একজন সচেতন ভোটারই পারে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে।
✍🏿 মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইনসাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী