হত্যার উদ্দেশে জঙ্গী কায়দায় হামলা চালায় আ.লীগ: নাহিদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ জঙ্গী সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা জঙ্গী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। এমন নাশকতা-সহিংসতা দেশের যে কোনো স্থানে যে কারো ওপর ঘটাতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুধবার রাতে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি। পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স (ছাড়পত্র) নিয়েই গোপালগঞ্জে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এরপরও যেভাবে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে, তা প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রমাণ দেয়।

তিনি জানান, হামলা সত্ত্বেও এনসিপির পূর্ব নির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার (আজ) ফরিদপুর এবং রাজবাড়ীতে পদযাত্রা ও পথসভা হবে। এছাড়া আজকে (বুধবার) মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও পরে সেখানে সমাবেশ হবে। আর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গোপালগঞ্জ ফ্যাসিবাদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সবাই এখানে ঠাঁই নিয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ রাজনীতি করতে পারবে না বলে বিশ্বাস তৈরি করা হয়েছিল। এনসিপি তা ভেঙ্গে দিয়েছে। তবে কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মুজিববাদী জঙ্গী চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করেছে।

তিনি বলেন, এনসিপির কর্মসূচি ছিল পূর্ব ঘোষিত। এ কারণে জঙ্গী সংগঠন আওয়ামী লীগও পরিকল্পনা করেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা পৌঁছানোর আগেই সমাবেশ মঞ্চ হামলার শিকার হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ইউএনওর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রশাসন পরে যে তৎপরতা দেখিয়েছে তা শুরু থেকে দেখানো দরকার ছিল। এখানে কোনো নাশকতা আছে কিনা তদন্ত করতে হবে। হামলার সঙ্গে আরো কে কে জড়িত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সারা দেশের মানুষের কাছে জুলাই অভ্যুত্থানের বার্তা পৌঁছে দিতে এবং সেই এলাকার মানুষের কথা শুনতে পদযাত্রা করছি। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বাইরের কোনো জেলা নয়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মামলার সমস্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

এনসিপির মাসব্যাপী জুলাই পদযাত্রার ১৬ তম দিনে গোপালগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। এর আগে সন্ধ্যার কিছু পরে এনসিপির নেতারা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা প্রহরায় খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছান। তাদের বহরে কয়েকশত কর্মীও ছিলেন। বহরের কিছু গাড়িতে ভাংচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। যেখানে কয়েকজন আহত কর্মীও ছিলেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দিন পটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।

Share