তেঁখ বাংলা রিপোর্ট :
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফ্রান্সে বসবাসরত মেধাবী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স। প্রবাসে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাতে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করে সংগঠনটি।
রোববার বিকেলে প্যারিসের ১৮তম অ্যারোন্ডিসমেন্টের একটি অভিজাত মিলনায়তনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ের আবহে আয়োজিত এ সংবর্ধনা পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মিলনমেলায়।
বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্করের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইমরান আহমদ, নুসরাত উদ্দিন ও রাবেয়া আক্তার সুবর্ণার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম বিচারক মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও কলামিস্ট এবং বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলাদেশিরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের কর্মদক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করে। একটি শক্তিশালী ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী বাংলাদেশি ডায়াস্পোরাকে আরও সংগঠিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আশরাফুল ইসলাম, খন্দকার হোসাইন, এফবিজেএ সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, ব্যবসায়ী তানজীম হায়দার, এফবিজেএ মুখপাত্র ও ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর-এর সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান, কমিউনিটি নেতা ওবায়দুল্লাহ কয়েছ, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মুকিত খান, অ্যাক্টিভিস্ট ও দ্য জার্নাল-এর সম্পাদক ফয়সাল আহমেদসহ প্রবাসী সমাজের বিশিষ্টজনরা।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অতিথিদের বক্তব্য শেষে ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যেসব পেশাজীবী নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন, তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধিত গুণীজনদের মধ্যে ছিলেন দিয়ান আশরাফ, বেগম জামিলা, রিতা তালুকদার, ব্রিয়ান খন্দকার, আফনান খান, ডা. শাহ মারজান, সাইমা আব্দুল্লাহ, শাহ জামসেদ, ইমরান চৌধুরী ও এন. কে. নয়ন।
এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনকারী ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্যারিস শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় গান, কবিতা, কৌতুক ও নাটিকার পরিবেশনা নারী, পুরুষ ও শিশু দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিজয় দিবসের আবহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি প্রবাসে দেশীয় সংস্কৃতির আবেগকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে।