বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি অপরিহার্য শর্ত। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোট দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও কর্মীদের দায়িত্ব ও ভূমিকা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রথমত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অঙ্গীকার প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা বিএনপি ও জামায়াতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে জনগণের মতামত প্রতিফলনের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহনশীলতা, ভিন্নমত গ্রহণের সংস্কৃতি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ চর্চা করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করা একটি মৌলিক দায়িত্ব। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উচিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটায়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
তৃতীয়ত, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা সৃষ্টি ও প্রাতিষ্ঠানিক পথে আন্দোলন জোরদার করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক ও যুক্তিনির্ভর সংলাপের মাধ্যমে দাবি উত্থাপন করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ। নির্বাচনকালীন অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে উপস্থাপন করাই হবে দায়িত্বশীল আচরণ।
চতুর্থত, ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন, ভয়ভীতি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন এবং ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে পারেন। এতে নির্বাচন ও গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
পঞ্চমত, গণভোটের ক্ষেত্রে যুক্তিনির্ভর প্রচার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট যেহেতু সরাসরি জনগণের মতামত গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া, তাই আবেগ বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিসংগত ও শালীন প্রচার চালানো উচিত। এতে জনগণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়, রাজনৈতিক দলগুলোরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা যদি দায়িত্বশীল, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপন করবে।
✍🏿 মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইনসাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী