বিশেষ প্রতিবেদন:
বিএনপি ও জমিয়তের সমঝোতায় সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন জমিয়তের নেতা জনাব ওবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপিতে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট ভাঙন ও অসন্তোষ।
ইতোমধ্যে বিএনপির সিলেট জেলা সহ-সভাপতি জনাব মামুনুর রশিদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা আসনটিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করছে।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জমিয়তের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ ফারুক দীর্ঘদিন ধরেই দ্বৈতনীতি অবলম্বন করে রাজনীতি করে আসছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইতিহাস
অতীত নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ সালে বিএনপি–জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট থাকা সত্ত্বেও ওবায়দুল্লাহ ফারুক প্রথমবারের মতো নির্বাচন করেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফরিদউদ্দিন চৌধুরি (দাঁড়িপাল্লা)–এর বিরুদ্ধে। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে বিএনপি ও জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করেন এবং জামায়াতের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ওই নির্বাচনে ওবায়দুল্লাহ ফারুক পান মাত্র ৮,৯৪৬ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফরিদউদ্দিন চৌধুরি পান ৭৮,০৬১ ভোট এবং আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জনাব হাফিজ আহমদ মজুমদার ১,০৯,৬৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
২০১৮ সালের নাটকীয় মোড়
২০১৮ সালের নির্বাচনে জোর তৎপরতার মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীতা বাগিয়ে নেন। এতে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনে অসহযোগিতার ঘোষণা দেন। ফলে চাপে পড়েন ওবায়দুল্লাহ ফারুক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সিলেট জেলা (উত্তর) জামায়াতের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জামায়াতের জেলা আমীর ও বর্তমান সিলেট-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হোসাইন খান, নায়েবে আমীর ও শাহজালাল জামেয়ার উপাধ্যক্ষ জনাব সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার এর সামনে অতীতের সব বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এ সময় তিনি তার লেখায় মাওলানা মওদুদী সম্পর্কে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এর ফলেই বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মাঠে নামেন এবং জামায়াতের ভোটব্যাংক তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ৮০ হাজার ভোট অর্জন করেন।
২০২৬ নির্বাচন: কঠিন বাস্তবতা
আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে ওবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তের খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে তিনি বিএনপির বড় একটি অংশের ভোট, পাশাপাশি জামায়াত ও আটদলীয় জোটের ভোট পাবেন না। যারফলে এই নির্বাচন তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে।
এছাড়াও স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, প্রতিবার নির্বাচনের পরপরই তিনি জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট ছেড়ে ঢাকায় চলে যান এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ থাকে না, যা তার প্রার্থীতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।