জামায়াত আমীর ও এনসিপি আহ্বায়ক-এর বাসায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন: গণতান্ত্রিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতভেদ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আদর্শিক পার্থক্য দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। তবে এসব ভিন্নতার মাঝেও যখন সংলাপ, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়, তখন তা গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে ওঠে। গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার বিএনপির চেয়ারম‍্যান তারেক রহমান-এর জামায়াত আমীর ডা: শফিকুর রহমান ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় আগমন রাজনৈতিক অঙ্গনে এমনই এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতিটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি ও কৌশল রয়েছে। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সৌজন্য সাক্ষাৎ দেখায় যে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি চলমান সংলাপের প্রক্রিয়া।

গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে পথ খোঁজা একটি অপরিহার্য অনুশীলন। যখন বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা অন্য দলের নেতার বাসায় যান, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্য নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপক্বতার বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংঘাত ও বিভাজনের অধ্যায় কম নয়। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ জনমনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, ভিন্ন অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে একসাথে বসা সম্ভব।

সংলাপের এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তিনভাবে:
১. বিশ্বাস গড়ে তোলে: দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায়।
২. সহিংসতা কমায়: আলোচনা সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতার পথ খুলে দেয়।
৩. জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে: নাগরিকরা দেখে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দায়িত্বশীল আচরণ করছে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কেবল ভোট বা নির্বাচনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা প্রকাশ পায় আচরণে, ভাষায় এবং পারস্পরিক সম্মানে। রাজনৈতিক নেতাদের সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ সেই নান্দনিকতারই প্রতিফলন। এতে বোঝা যায় যে, মতভেদ থাকলেও শত্রুতা নয়; বরং সহাবস্থানই গণতান্ত্রিক চেতনার মূল।

রাজনীতির মঞ্চে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই বিতর্ক সভ্যতার সীমা অতিক্রম করে না এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে, তখন গণতন্ত্র তার প্রকৃত রূপে বিকশিত হয়।

নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জামায়াত আমীর ও এনসিপি আহ্বায়ক-এর বাসায় আগমন তাই নিছক একটি রাজনৈতিক সাক্ষাৎ নয়; এটি একটি বার্তা; সংলাপের, সহাবস্থানের এবং গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের জন্য আরও সহনশীল ও সমঝোতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।

গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য এখানেই; ভিন্নতার মাঝেও ঐক্যের সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া।

✍🏿 মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

Share