নেকাবের ইতিহাস ও আমার ভাবনা

নেকাবের ইতিহাস ( মুখঢাকা পর্দা) ইসলামিক সংস্কৃতি ও ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার শিকড় প্রাক-ইসলামি যুগ থেকে শুরু করে ইসলামের বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

১. প্রাক-ইসলামিক আরব সমাজে ইসলামের আগমনের পূর্বেও আরব নারীরা পর্দার বিভিন্ন রূপ পালন করত। ধনী ও উচ্চবর্ণের নারীরা নিজের মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য মাথা ও মুখ ঢেকে চলত। এটি ছিল সামাজিক অবস্থানের প্রতীক।

২. ইসলামের প্রবর্তনকাল (৭ম শতাব্দী) ইসলামের আগমন পর নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শালীনতা রক্ষার উদ্দেশ্যে পর্দার বিধান আসে।
পবিত্র কুরআনে মুখাবৃতির সরাসরি নির্দেশ নেই, তবে বেশ কিছু আয়াতে ‘জিলবাব’ ও ‘খিমার’ পরিধানের কথা বলা হয়েছে (সূরা আহযাব ৩৩:৫৯, সূরা নূর ২৪:৩১) যা শরীর আচ্ছাদন সম্পর্কিত।
ব্যাখ্যাগুলোর ভিত্তিতে অনেক আলেম নেকাবকে ওয়াজিব (আবশ্যিক) মনে করেন, আবার অনেকে সুন্নত বা ঐচ্ছিক বলেও মত দিয়েছেন।

৩. বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্র ও যুগে বিশেষ করে উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফতের সময় সমাজে নেকাব প্রচলিত ছিল, তবে তা ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সামাজিক রীতি হিসেবেও প্রচলিত ছিল। পারস্য, উপমহাদেশ, উসমানীয় সাম্রাজ্য, আফগান এবং ইরানি সমাজে নেকাব ছিল সম্মান ও সংরক্ষণের প্রতীক।

৪. হিমালয়ান উপমহাদেশে মুঘল আমলে উচ্চবর্ণের মুসলিম ও হিন্দু নারীরা নেকাব বা ঘুঙট ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিল। এটি ছিল সম্মান ও মর্যাদার প্রকাশ; তবে সর্বস্তরের নারীর জন্য নয়।

৫. আধুনিক যুগে বিতর্ক ও পরিবর্তনে কিছু মুসলিম দেশ (যেমন সৌদি আরব, আফগানিস্তান) নেকাবকে বাধ্যতামূলক করেছে। আবার অনেক দেশে (যেমন ফ্রান্স, বেলজিয়াম) নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা ও ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে। বর্তমানে মুসলিম নারীরা ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুশাসন ও সংস্কৃতি অনুযায়ী নেকাব পরিধান করেন।

পরিশেষে বলা যায়, নেকাবের ইতিহাস মূলত ধর্ম, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এটি শুধু একটি পোশাক নয়; এটি বহু নারীর বিশ্বাস, পরিচিতি ও আত্মরক্ষার প্রতীক।

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী

Share