ফ্যাসিবাদের দোসর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ভিসি এখনো বহাল তবিয়তে

বিশেষ প্রতিবেদন:

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (SIU) ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক তৎপরতা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ভিসি প্রফেসর আশরাফুল আলম ও ট্রেজারারের প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পুনর্বাসন ঘটছে।
ভিসি প্রফেসর আশরাফুল আলম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ সিলেট এমসি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কৃত এক ছাত্রলীগ নেতা আল হামরাকে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেওয়া দিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বেই বর্তমানে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক তৎপরতা সক্রিয় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার লঙ্ঘন।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ঐক্য বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলাদা গ্রুপ গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে আন্দোলন দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান খানকে ঘিরেও বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ৫ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়, যার জেরে শিক্ষার্থীদের চাপে ভিসি তাকে পদচ্যুত করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে কোনো দৃশ্যমান তদন্ত ছাড়াই তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান খান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের ভাতিজা, এ তথ্য ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দেয়।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ভিসি ও ট্রেজারার নিজেরাই ফ্যাসিবাদী রাজনীতির দোসর এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভূমিকা রেখে আসছেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ভিসি–ট্রেজারারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ট্রেজারার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন,
“বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই রাজনৈতিক পক্ষপাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জায়গা হতে পারে না। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।”
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ।

Share